ইয়াকীনের যাত্রা

পর্ব ১৮, অংশ ২ – ডিএনএর দৈর্ঘ্য গণনা

মানবদেহের ডিএনএর মোট দৈর্ঘ্যের হিসাব কীভাবে করা হয়? কোষসংখ্যা, বেস জোড়া এবং বাদ পড়া উপাদানের তথ্যসূত্র ও গণনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা।

ভূমিকা ও উদ্দেশ্য

প্রিয় ভাইয়েরা, আসসালামু আলাইকুম। এই ভিডিওটি ‘নিশ্চয়তার যাত্রা’র ১৮তম পর্বের পরিপূরক। সেই পর্বের শিরোনাম ‘প্রায় অবিশ্বাস্য বিস্ময়: আপনার দেহে জেনেটিক উপাদানের দৈর্ঘ্য’। এই অংশের উদ্দেশ্য হলো সেখানে উল্লেখ করা বিস্ময়কর তথ্যের পক্ষে আরও সূত্র তুলে ধরা।

আপনার দেহে জেনেটিক উপাদানের (20 বিলিয়ন) কিলোমিটার—এই বিশাল সংখ্যায় গবেষণা কীভাবে পৌঁছাল?

জেনেটিক উপাদানের দৈর্ঘ্য গণনা

কোষের সংখ্যা অনুমান

2013 সালে «Annals of Human Biology» পত্রিকায় প্রকাশিত গবেষণাটি আমরা উল্লেখ করেছি। এতে কোষের সংখ্যা নিয়ে (30)টি বই ও আগের গবেষণার অনুমান সংক্ষেপ করা হয়েছিল। অনুমান 10-এর ঘাত 12 (10^12) কোষ—অর্থাৎ এক ট্রিলিয়ন—থেকে 10 হাজার ট্রিলিয়ন পর্যন্ত।

আচ্ছা, পার্থক্য অনেক বড়। আমরা আরও নির্দিষ্ট একটি সংখ্যা চাই। ঠিক আছে। তাই ২০১৩ সালের গবেষণাটি শরীরের প্রতিটি অঙ্গে কোষের সংখ্যা নির্ণয় করতে আরও কয়েক ডজন গবেষণা পর্যালোচনা করেছে, যেমন এই সারণিতে দেখা যাচ্ছে। আর এখানে রয়েছে মানক বিচ্যুতি, অর্থাৎ সংখ্যাটির তুলনায় যোগ বা বিয়োগ (+/−)।

(2013) সালের গবেষণা সব সংখ্যা একত্র করে সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে মানবদেহে প্রায় (37.2) ট্রিলিয়ন কোষ রয়েছে—তুলনামূলকভাবে সংযত অনুমানের কাছাকাছি।

একটি কোষে জেনেটিক উপাদানের দৈর্ঘ্য

আচ্ছা, একটি কোষের বংশগত উপাদানের দৈর্ঘ্য কীভাবে হিসাব করা হয়েছে? এখানকার হিসাব তুলনামূলক সহজ: বেস জোড়ার (Base Pair) দৈর্ঘ্য—যা বংশগত উপাদানের ক্ষুদ্রতম গঠন একক—গুণ বেস জোড়ার সংখ্যা। ফল দুই মিটার। গবেষণাগুলোর মধ্যে এই সংখ্যা নিয়ে অনেকটাই ঐকমত্য রয়েছে; সামান্য কম বা বেশি, যেমন ‘The Physics Factbook’ বিশ্বকোষ থেকে দেখানো সারণিতে এবং ‘Molecular Biology of the Cell’ বইয়ে রয়েছে।

পর্বটিতে আমি বলেছিলাম, ‘Scitable’-এর মতো কিছু ওয়েবসাইট আরও বড় অনুমান দেয়। আর এমন কোনো সূত্র পাইনি, যেখানে হিসাব দিয়ে এর চেয়ে কম ফল দেখানো হয়েছে। কেউ হয়তো বলবেন, বরং কম দৈর্ঘ্যের কথা বলে এমন সূত্রও আছে। উত্তর হলো, ওই সাইটগুলোর কোনোটিই সে ফলাফলে পৌঁছানোর ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হিসাব উল্লেখ করে না।

অতিরিক্ত মন্তব্য ও নথিপত্র

আবারও জোর দিয়ে বলছি, প্রকৃত দৈর্ঘ্য ২০ বিলিয়ন কিলোমিটারের বেশি হতে পারে। বিশেষ করে শরীরের কিছু কোষ অক্টোপ্লয়েড (Octoploid) বা টেট্রাপ্লয়েড (Tetraploid), অর্থাৎ তাতে বংশগত উপাদানের একাধিক কপি রয়েছে। এ ছাড়া কোষের শক্তি উৎপাদক মাইটোকন্ড্রিয়াতেও (Mitochondria) বংশগত উপাদান আছে, যা এই হিসাবগুলোতে ধরা হয়নি।

জেনেটিক উপাদানের বিন্যাস

ভাইয়েরা, এই বংশগত উপাদান বিস্ময়করভাবে সাজানো, যেমন নিউক্লিয়াসগুলোতে দেখা যায়, কিংবা ওপর থেকে দেখলে যেমন দেখায়। এই হলো বংশগত উপাদানের সুতো, যা হিস্টোন (Histones) ঘিরে প্যাঁচানো। সুতরাং বিশ্বজগতের রব আল্লাহ কতই না পবিত্র!

তথ্যসূত্র তুলে ধরার ক্ষেত্রে আমার পক্ষে এটুকুই সর্বোত্তম করা সম্ভব হয়েছে। তাওফিকদাতা আল্লাহই। আপনাদের ওপর শান্তি ও আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।


মূল উৎস: ড. ইয়াদ কুনাইবির সরকারি ওয়েবসাইট.