আমি তোমার সাথে কথা বলছি

যুক্তির আলোকে ঈমান

ঈমান ও যুক্তি কি পরস্পরবিরোধী? স্রষ্টার অস্তিত্ব, নবীদের সত্যবাদিতা এবং বিশ্বাসের ভিত্তি বুঝতে জ্ঞান ও যুক্তির ভূমিকা জানুন।

যুক্তির আলোকে ঈমান

হৃদয় ও যুক্তি: বিরোধ কোথায়?

কিছু নাস্তিক দাবি করেন, কোনো স্রষ্টা নেই; কারণ তাঁদের মতে, তাঁর অস্তিত্বের পক্ষে কোনো বস্তুগত বা যৌক্তিক প্রমাণ নেই। কিছু বিশ্বাসী বলেন, মহাবিশ্বের অবশ্যই একজন স্রষ্টা আছেন, কিন্তু তাঁর অস্তিত্বের কোনো “যৌক্তিক প্রমাণ” নেই—এ বিষয়ে তাঁরা নাস্তিকদের সঙ্গে একমত। তাঁদের মতে, আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাস কেবল “হৃদয় থেকে উৎসারিত অনুভূতি”র ওপর নির্ভর করে, যুক্তির ওপর নয়; অথবা নবীরা যা নিয়ে এসেছেন, তা মেনে নেওয়াই এর অর্থ।
হৃদয় যে আল্লাহর প্রতি ঈমানকে অনুপ্রাণিত ও শক্তিশালী করে, তাতে সন্দেহ নেই। নবীদের বাণী যে ঈমানকে সমর্থন করে, তাতেও সন্দেহ নেই। কিন্তু কে বলেছে, ঈমান ও যুক্তি পরস্পরের সঙ্গে মেলে না? কিংবা ঈমানের পক্ষে যৌক্তিক প্রমাণ থাকতে পারে না? যুক্তির ভুলটি এখানেই!
যথার্থ ঈমান জ্ঞান ও যুক্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। তা না হলে যিনি একজন স্রষ্টায় বিশ্বাস করেন, যিনি দুজন স্রষ্টায় বিশ্বাস করেন এবং যিনি কিছুতেই বিশ্বাস করেন না—তাঁদের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকবে না। কারণ প্রত্যেকেই দাবি করতে পারবেন, তাঁর বিশ্বাস হৃদয়ের বিষয়, যা যৌক্তিক আলোচনার আওতায় আনা যায় না। তখন কেউ কাউকে বলতে পারবেন না যে তাঁর বিশ্বাস ভুল—তিনি আল্লাহর ইবাদত করুন, পূর্বপুরুষদের আত্মার উপাসনা করুন, এমনকি গরুর উপাসনাই করুন!

ইসলাম: ঈমান ও যুক্তির সমন্বয়

বিশ্বাসকে “কেবল হৃদয়ের বিষয়” বলে দেখা ভ্রান্ত বিশ্বাসের অনুসারীদের জন্য সহজে দায় এড়ানোর পথ হতে পারে। এতে তাঁরা নিজেদের বিশ্বাসকে বিচারবুদ্ধি ও যুক্তির নিরীক্ষা থেকে আড়াল করতে পারেন।
কিন্তু বিশ্বজনীন বাণীর বাহক একজন মুসলিমের এমন মনোভাব শোভা পায় না, যখন তিনি তাঁর প্রতিপালকের কিতাবে পড়েন:

অতএব, হে রাসূল! জেনে রেখো, নিঃসন্দেহে আল্লাহ ছাড়া কোনো (সত্য) ইলাহ নেই। তুমি ক্ষমা চাও, তোমার ও মু’মিন নারী-পুরুষদের ত্রুটি-বিচ্যুতির জন্য। আল্লাহ তোমাদের গতিবিধি এবং অবস্থান সম্পর্কে অবগত রয়েছেন।কুরআন — সূরা Muhammad (47:19)উৎস : QuranEnc.com — Bengali Translation - Rowwad Translation Center — v1.1.2

আর যাতে যাদেরকে ইলম দেওয়া হয়েছে তারা জানতে পারে যে, এটি তোমার রবের পক্ষ থেকে আগত সত্য; ফলে তারা এতে ঈমান আনে এবং তাদের অন্তর এর প্রতি বিনম্র হয়ে যায়। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ ঈমানদারদেরকে সরল-সঠিক পথে পরিচালিত করেন।কুরআন — সূরা الحج (22:54)উৎস : QuranEnc.com — Bengali Translation - Rowwad Translation Center — v1.1.2

অর্থাৎ প্রথমে আসে জ্ঞান, তারপর সেই বিচার-বিবেচনায় অর্জিত জ্ঞান থেকে জন্ম নেয় ঈমান; এরপর আসে জেনেবুঝে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তিন শ্রেণির মানুষের ওপর থেকে কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে: শিশু, যতক্ষণ না সে বালেগ হয়; মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি, যতক্ষণ না তার সুস্থবুদ্ধি ফিরে আসে; এবং ঘুমন্ত ব্যক্তি, যতক্ষণ না সে জেগে ওঠে। ” হাদিসটি বর্ণনা করেছেন আহমদ, আবু দাউদ ও তিরমিযি।
এই তিন শ্রেণির মানুষের সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো, ওই অবস্থায় তাঁরা চিন্তাভাবনা করে যৌক্তিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে অক্ষম। এ কারণেই তাঁদের কাজের জন্য তাঁদের জবাবদিহি করতে হবে না। এতে বোঝা যায়, ঈমান ও ঈমানের দাবি অনুযায়ী আমলের সঙ্গে বিবেকবুদ্ধি ও যুক্তির গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

কুরআনে আমরা এমন বহু আয়াতও পড়ি, যেখানে নিছক অনুমানের ওপর বিশ্বাস স্থাপনকারীদের কঠোর নিন্দা করা হয়েছে এবং তাদের অজ্ঞ, এমনকি নির্বোধ বলা হয়েছে:

আর তারা বলে: ‘ইয়াহূদী অথবা খৃস্টান ছাড়া অন্য কেউ কখনো জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ আসলে এটা তাদের মিথ্যা অলীক আশা মাত্র। তাদেরকে বলো: ‘যদি তোমরা সত্যবাদী হও, তবে তোমাদের দাবির স্বপক্ষে প্রমাণ পেশ করো।’কুরআন — সূরা البقرة (2:111)উৎস : QuranEnc.com — Bengali Translation - Rowwad Translation Center — v1.1.2

তারা কি আল্লাহকে ছাড়া অনেক ইলাহ গ্রহণ করেছে? (হে রাসূল! তুমি মুশরিকদেরকে) বলো: ‘তোমরা তোমাদের প্রমাণ নিয়ে আসো। আমার সাথে যারা আছে, এটি তাদের জন্য উপদেশ এবং আমার পূর্বে যারা ছিল, তাদের জন্যও এটাই ছিল উপদেশ।’ কিন্তু তাদের অধিকাংশই প্রকৃত সত্যকে জানে না; ফলে তারা (সত্য গ্রহণ থেকে) মুখ ফিরিয়ে নেয়।কুরআন — সূরা Al-Anbiyaa (21:24)উৎস : QuranEnc.com — Bengali Translation - Rowwad Translation Center — v1.1.2

এগুলো তো কতিপয় (অর্থহীন) নাম, যে নামগুলো তোমরা ও তোমাদের পিতৃপুরুষেরা রেখেছ। এ ব্যাপারে আল্লাহ কোন দলিল-প্রমাণ নাযিল করেননি। তারা তো কেবল অনুমান এবং নিজেদের কুপ্রবৃত্তির যা চায়, তার অনুসরণ করে। অথচ তাদের কাছে তাদের রবের পক্ষ থেকে (নবীর মাধ্যমে) হিদায়াত এসেছে।কুরআন — সূরা النجم (53:23)উৎস : QuranEnc.com — Bengali Translation - Rowwad Translation Center — v1.1.2

(হে আহলে কিতাব) সাবধান! তোমরা তো এমন, যেসব বিষয়ে তোমাদের কিছু জ্ঞান আছে তাতে তর্ক করলে(৩৬); তবে যেসব বিষয়ে তোমাদের কোনো জ্ঞান নেই, সে বিষয়ে কেন তর্ক-বিতর্ক করো? আর আল্লাহ জানেন, কিন্তু তোমরা জানো না।(৩৬) তারা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ধর্মীয় সেসব বিষয়ে তর্ক করেছে, যা তাদের ওপর ইতঃপূর্বে এবং আমাদের উপরও নাযিল হয়েছে।কুরআন — সূরা Aal-i-Imraan (3:66)উৎস : QuranEnc.com — Bengali Translation - Rowwad Translation Center — v1.1.2

ঈমানের বিষয় নিয়ে যেকোনো চিন্তাভাবনা এভাবেই শুরু হওয়া উচিত। আল্লাহর অস্তিত্ব ও নবীদের সত্যবাদিতা সম্পর্কে জ্ঞান অবশ্যই যৌক্তিক ও প্রত্যক্ষ প্রমাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে হবে, নিছক অনুমানের ওপর নয়। হৃদয় গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু যুক্তি অগ্রাধিকার পায়। বিশ্বাসকে সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করার পরই হৃদয় তাতে নিবিষ্ট হতে পারে।

সূর্যের অস্তিত্ব প্রমাণ করাও যখন প্রয়োজন হয়ে ওঠে

আল্লাহর অস্তিত্ব কি প্রমাণ করতে হবে? কেউ কেউ বলবেন, এর প্রয়োজন নেই; বিষয়টি এতই সুস্পষ্ট যে মহান স্রষ্টার অস্তিত্ব প্রমাণ করতে চাওয়াও তাঁর প্রতি অবমাননা। আমাদের উত্তর হলো: যখন সব মানুষের মধ্যে আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাস প্রচলিত ছিল, তখন এ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করার প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু আজ বস্তুবাদের ঢেউ আমাদের পৃথিবীকে গ্রাস করায় বহু মানুষের চিন্তাভাবনায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ সৃষ্টির সত্যকেই অস্বীকার করতে শুরু করেছেন। তাই তাঁদের দাবির জবাব দেওয়া প্রয়োজন, যাতে সত্য সবার সামনে উজ্জ্বল হয়ে থাকে।

কখনো অতিরিক্ত আলো দেখার পথে বাধা হয়; সূর্যের আলোও এভাবেই কাউকে সূর্য দেখতে বাধা দিতে পারে।

বিষয়টি বোঝাতে কল্পনা করুন: একদিন একদল মানুষ নিজেদের “সূর্য-অস্বীকারবাদী” বলে ঘোষণা করল—ফরাসিতে “আহেলেইস্ত”, গ্রিক “হেলিওস” অর্থাৎ সূর্য থেকে শব্দটি এসেছে। তারা সূর্যের অস্তিত্বে বিশ্বাস করে না। তাদের দাবি, সূর্য নেই, কারণ তার অস্তিত্বের কোনো প্রমাণ নেই; আর আকাশে আমরা যা দেখি, তা দৃষ্টিবিভ্রম!
তখন বিশ্বাসীরা, অর্থাৎ যাঁরা সূর্যের অস্তিত্বে বিশ্বাস করেন, কী অবস্থান নেবেন?
— কেউ বলবেন, সূর্য আছে, এটি সুস্পষ্ট; কিছু প্রমাণ করার বা বিতর্কে যাওয়ার দরকার নেই।
— অন্যরা বারবার “সূর্যের অস্তিত্বের কোনো প্রমাণ নেই” শুনতে শুনতে শেষ পর্যন্ত বিশ্বাস করবেন যে সত্যিই কোনো প্রমাণ নেই। তাঁরা বলবেন, সূর্যের অস্তিত্বে বিশ্বাস করা “হৃদয়ের বিষয়”।
— আর যাঁরা বিষয়টি ভালোভাবে জানেন, তাঁরা সূর্য-অস্বীকারবাদীদের দাবি খণ্ডন করতে তাঁদের সঙ্গে বিতর্কে নামবেন। যুক্তি ও বিজ্ঞানের প্রমাণ দিয়ে দেখাবেন, সূর্য আছে। এই অবস্থানই সবচেয়ে সঠিক, কারণ এতে বিশ্বাসীদের চিন্তার শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।

আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণ

“আমি বিশ্বাস করি না যে আল্লাহ আছেন। আপনি বিশ্বাস করেন তিনি আছেন; তাহলে প্রমাণ করুন, আমাকে প্রমাণ দিন! ”—নাস্তিক যে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে এই প্রশ্ন করেন, তাতে বিশ্বাসীর মনে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। মনে হতে পারে, নাস্তিকতাই যেন স্বাভাবিক অবস্থান, যার পক্ষে কোনো প্রমাণ লাগে না; অথচ বিশ্বাসীর কাছেই প্রমাণ চাওয়া হচ্ছে।

বলুন, “তোমরা যদি সত্যবাদী হও, তবে তোমাদের প্রমাণ উপস্থিত কর।”

অবিশ্বাসীদের দাবির মোকাবিলায় কুরআন এভাবেই যুক্তি উপস্থাপন করে।

কিন্তু নাস্তিকতার অলীক দাবির মুখোশ খুলতে ভূমিকাগুলো উল্টে দিলে কেমন হয়? আল্লাহর অস্তিত্ব ও নবীদের সত্যবাদিতার পক্ষে আমাদের প্রমাণ তুলে ধরার আগে নাস্তিককেই তাঁর বিশ্বাসের পক্ষে প্রমাণ দিতে বলি। অর্থাৎ, “আপনি বিশ্বাস করেন আল্লাহ নেই; আপনার প্রমাণ দিন!” নাস্তিককে এ প্রশ্ন করতে ভয় পাবেন না। দেখবেন, নাস্তিকতা কতটা অন্ধ বিশ্বাসের ওপর দাঁড়িয়ে আছে:
কিছুক্ষণ নীরব থাকার পর তিনি বলবেন, আল্লাহর অনস্তিত্ব প্রমাণ করা অসম্ভব; তবে তাঁর অস্তিত্বের বিরুদ্ধে তাঁর কিছু “যুক্তি” আছে। সেগুলো হয় কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের সমালোচনা—যা কখনো যথার্থও হতে পারে—অথবা এমন কোনো মনস্তাত্ত্বিক বা সামাজিক প্রশ্ন, যার উত্তর তিনি এখনো পাননি: মন্দের অস্তিত্বের প্রশ্ন, ধর্মের কারণে যুদ্ধ হয়েছে ইত্যাদি। এই সাইটে এসব কথিত যুক্তির উত্তর পাবেন। তখন বোঝা যাবে, নাস্তিকতা কত “সুদৃঢ় ভিত্তির” মতাদর্শ…
প্রতিপক্ষ যখন নিরস্ত্র হবেন, স্বীকার করবেন যে তাঁর কাছে প্রমাণ নেই, এবং তাঁর কথিত যুক্তিগুলো খণ্ডিত হবে, তখন তাঁর সামনে আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণ তুলে ধরার সময় আসবে। TheSigns.co-তে আমরা নতুন কোনো প্রমাণ আবিষ্কারের দাবি করি না—তার প্রয়োজনও নেই। আল্লাহ তাঁর সৃষ্টি এবং নবীদের বাণীতে যথেষ্ট প্রমাণ রেখে দিয়েছেন। এই সাইটে আমাদের কাজ শুধু চিন্তাগুলো গুছিয়ে সুসংগতভাবে উপস্থাপন করা, যাতে বিষয়টি ঘিরে থাকা বিভ্রান্তি দূর হয়।
প্রমাণ থাকলে এত অবিশ্বাসী কেন?
কিছু নাস্তিক বলেন, আল্লাহ থাকলে তিনি এমন ব্যবস্থা করতেন, যাতে তাঁর অস্তিত্বে সবাই বিশ্বাস করার মতো যথেষ্ট প্রমাণ পায়। যুগ যুগ ধরে অবিশ্বাসীরা যে যুক্তি দিয়ে এসেছে, এই যুক্তি তারই খুব কাছাকাছি। কুরআনের উত্তর হলো:

অচিরেই মুশরিকরা বলবে: ‘আল্লাহ যদি চাইতেন, আমরা ও আমাদের পিতৃপুরুষরা শিরক করতাম না এবং আমরা কোন কিছু হারাম করতাম না।’ এভাবেই তাদের পূর্ববর্তীরাও মিথ্যারোপ করেছে, যে পর্যন্ত না তারা আমার শাস্তি আস্বাদন করেছে। বলো: ‘তোমাদের কাছে কি কোন জ্ঞান আছে, যা তোমরা আমাদের জন্য প্রকাশ করবে?(৩৮) তোমরা তো শুধু কল্পনারই অনুসরণ করো এবং শুধু মনগড়া কথা বলো।'(৩৮) অর্থাৎ তোমাদের নিকট কি এমন কোন দলিল আছে, যা এ কথা প্রমাণ করে যে, আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের শিরক এবং হারামকে হালাল করা ও হালালকে হারাম করার উপর সন্তুষ্ট আছেন?বল: ‘চূড়ান্ত প্রমাণ তো আল্লাহরই। সুতরাং তিনি যদি ইচ্ছে করতেন, তবে তোমাদের সবাইকে অবশ্যই হিদায়াত দান করতেন।’কুরআন — সূরা Al-An'aam (6:148–149)উৎস : QuranEnc.com — Bengali Translation - Rowwad Translation Center — v1.1.2

আল্লাহ তাঁর প্রজ্ঞা ও ইচ্ছায় মানুষকে স্বাধীন সত্তা করেছেন—বিশ্বাস করা কিংবা না করার স্বাধীনতা দিয়েছেন। সত্য ও মিথ্যা আলাদা করার জন্য তিনি মানুষকে বিবেকবুদ্ধিও দিয়েছেন।
আল্লাহ তাঁর অস্তিত্ব ও মহত্ত্ব এবং তাঁর নবীর সত্যবাদিতার পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ তুলে ধরেছেন। কেউ যদি তা বিশ্বাস না করে, তার কারণ প্রমাণের অনুপস্থিতি নয়; বরং সুস্পষ্ট সত্যের সামনে তার নিজের চোখ ঢেকে রাখা।

ঈমান কেবল আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাসের নাম নয়
সবশেষে, এই সাইটে ব্যবহৃত “ঈমান” শব্দটি কেবল আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মুমিন সেই ব্যক্তি, যিনি আল্লাহ, তাঁর প্রেরিত রাসুলগণ, তাঁর নাজিল করা কিতাবসমূহ—কুরআন, মূল তাওরাত, মূল ইঞ্জিল ও মূল যাবুর ইত্যাদি—তাঁর ফেরেশতাগণ, তাকদির এবং আখিরাত—জাহান্নাম, জান্নাত, পুনরুত্থান ইত্যাদিতে বিশ্বাস করেন। তাই এই সাইট শুধু নাস্তিকদের জন্য নয়, অমুসলিমদের জন্যও। আল্লাহর প্রেরিত নবীদের বাণীর সত্যতা এবং আল্লাহ কুরআনে যা নাজিল করেছেন, তা নিয়ে চিন্তা করার আহ্বান জানানো হচ্ছে তাঁদের।

পূর্ব ও পশ্চিমদিকে (১৫) তোমাদের মুখ ফিরানো সৎকর্ম নয়; কিন্তু সৎকর্ম হলো যে ব্যক্তি আল্লাহ, শেষ দিবস, ফিরিশতাগণ, কিতাবসমূহ ও নবীগণের প্রতি ঈমান আনবে। আর সম্পদের প্রতি ভালোবাসা (১৬) থাকা সত্ত্বেও তা দান করবে আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতীম, অভাবগ্রস্ত, মুসাফির, সাহায্যপ্রার্থী ও দাসমুক্তির জন্য এবং সালাত প্রতিষ্ঠা করবে, যাকাত দিবে, প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা পূর্ণ করবে, অর্থ-সংকটে, দুঃখ-কষ্টে ও সংগ্রাম-সংকটে ধৈর্য ধারণ করবে। মূলত তারাই সত্যবাদী এবং তারাই মুত্তাকী।(১৫) ইবাদতের সময় ইয়াহুদীরা পশ্চিম দিকে এবং খৃস্টানরা পূর্ব দিকে মুখ করে থাকে।
(১৬) (عَلَى حُبِّهِ) দ্বারা দুটি অর্থ হতে পারে: এক. আল্লাহর ভালোবাসায় উপরোক্ত খাতসমূহে সম্পদ ব্যয় করা। দুই. সম্পদের প্রতি নিজের অতিশয় আসক্তি ও ভালোবাসা থাকা সত্বেও উপরোক্ত খাতসমূহে সম্পদ ব্যয় করা।
কুরআন — সূরা Al-Baqara (2:177)উৎস : QuranEnc.com — Bengali Translation - Rowwad Translation Center — v1.1.2