নবীগণ সাক্ষ্য দেন

নবীদের মুজিজা

নবীদের সত্যবাদিতার প্রমাণ হিসেবে মুজিজার ভূমিকা কী? সালিহ, মুসা, ঈসা ও মুহাম্মদ ﷺ-এর নিদর্শন, কুরআনের অলৌকিকতা এবং যুক্তির সম্পর্ক জানুন।

নবীদের মুজিজা

প্রমাণসহ প্রেরিত রাসুলেরা

নবীদের নিজেদের নবুয়তের জীবন্ত ও সুস্পষ্ট প্রমাণ বহন করতে হয়। এই প্রমাণ সাধারণত মুজিজার রূপে আসে, যা সৃষ্টিজীবের ক্ষমতার ঊর্ধ্বে। এর মাধ্যমে নিশ্চিত হয়, তাঁরা সত্যিই আল্লাহর রাসুল এবং তাঁর কাছ থেকেই পথনির্দেশ ও নির্দেশনা পান।
এ ধরনের “আরোহী যুক্তি”র মাধ্যমে মানুষকে বোঝানো হয়, বক্তা ব্যক্তিগত স্বার্থ রক্ষা করছেন না; বরং আকাশ ও পৃথিবীর মালিক আল্লাহর বাণী পৌঁছে দিচ্ছেন।
এ ধরনের মুজিজা ঘটে আল্লাহর নিরঙ্কুশ ক্ষমতায়, মানুষের অতি সীমিত সামর্থ্যে নয়।

নবীদের মুজিজা—তাঁদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক

নবী সালিহ প্রকাশ্যে আরবের প্রাচীন সামুদ জাতির কাছে নিজের নবুয়ত ঘোষণা করেন এবং তাদের প্রতিপালকের পথে আহ্বান জানান। তাঁর জাতি এই আহ্বান গ্রহণে অনীহা দেখিয়ে তাঁর সত্যবাদিতার প্রমাণ চায়। প্রমাণ হিসেবে আল্লাহ উটনীর মুজিজা দেন। উটনীটির অলৌকিক বৈশিষ্ট্য উপস্থিত মানুষকে অভিভূত করে:

ইবরাহিমের মুজিজা

আমি (আল্লাহ) বললাম: ‘হে আগুন! তুমি ইবরাহীমের জন্য শীতল ও শান্তিময় হয়ে যাও।’কুরআন — সূরা Al-Anbiyaa (21:69)উৎস : QuranEnc.com — Bengali Translation - Rowwad Translation Center — v1.1.2

‘তাই তোমরা আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁকেই ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।’‘আর তোমরা সীমালঙ্ঘনকারীদের নির্দেশ মান্য করো না।’‘যারা জমিনে (পাপকর্ম ছড়িয়ে) বিপর্যয় সৃষ্টি করে এবং (আল্লাহর আনুগত্য আঁকড়ে ধরে) নিজেদেরকে সংশোধন করে না।’তারা (তাঁর সম্প্রদায়ের লোকেরা) বলল: ‘তুমিতো যাদুগ্রস্তদের একজন।’‘তুমি তো কেবল আমাদের মতো একজন মানুষ। সুতরাং তুমি যদি (রিসালাতের দাবিতে) সত্যবাদী হও, তবে কোনো নিদর্শন (মু‘জিযা) নিয়ে এসো।’সালিহ (তাদেরকে) বললো: ‘এটি একটি উষ্ট্রী (এটিই আমার নিদর্শন); তার জন্য রয়েছে পানি পানের পালা, আর তোমাদের জন্য আছে নির্ধারিত দিনে পানি পানের পালা।’(১৭)(১৭) একদিন কুয়া থেকে উষ্ট্রীটি পানি পান করবে, আর পরদিন তোমরা পান করবে। এভাবেই চলতে থাকবে।‘আর তোমরা তাকে (হত্যা করে বা মেরে) কোন অনিষ্ট সাধন করো না; যদি করো, তবে এক মহা দিনের শাস্তি তোমাদেরকে পাকড়াও করবে।’(১৮)(১৮) ফলে তিনি তোমাদেরকে ধ্বংস করে দিবেন।কুরআন — সূরা Ash-Shu'araa (26:150–156)উৎস : QuranEnc.com — Bengali Translation - Rowwad Translation Center — v1.1.2


ফেরাউন তাঁকে মিথ্যাবাদী বললে নবী মুসাও একই ধরনের প্রমাণ উপস্থাপন করেন। নিজের প্রাসাদে আসা ব্যক্তি আল্লাহর নবী ও রাসুল—এই কথা ফেরাউন প্রবলভাবে প্রত্যাখ্যান করে।

“তুমি আমাকে ছাড়া অন্য কাউকে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করলে অবশ্যই তোমাকে কারারুদ্ধ করব।”



অতঃপর আমি মূসার প্রতি ওয়াহী পাঠালাম: ‘তোমার লাঠি দ্বারা সমুদ্রে আঘাত করো।’ ফলে তা ( বিদীর্ণ হয়ে ) বিভক্ত হয়ে গেলো। তারপর প্রত্যেক ভাগ বিশাল পাহাড়ের মতো হয়ে গেলো।কুরআন — সূরা الشعراء (26:63)উৎস : QuranEnc.com — Bengali Translation - Rowwad Translation Center — v1.1.2

ফির‘আউন (মূসার সাথে তর্কে অক্ষম হয়ে) বললো: ‘যদি তুমি আমাকে ছাড়া কাউকে ইলাহরূপে গ্রহণ করো, তাহলে অবশ্যই আমি তোমাকে কারারুদ্ধদের অন্তর্ভুক্ত করব।’মূসা বলল, ‘আমি যদি তোমার কাছে স্পষ্ট কোনো নিদর্শন নিয়ে আসি(৮)’(৮) অর্থাৎ তবুও কি তুমি তা অস্বীকার করবে? এবং আমাকে কারারুদ্ধ করবে?ফির‘আউন বললো: ‘তুমি সত্যবাদী হয়ে থাকলে, তা নিয়ে এসো।’অতঃপর সে তার (হাতের ) লাঠিটি (জমিনে) ফেলে দিলো, ফলে তৎক্ষণাৎ তা একটি স্পষ্ট অজগর সাপে পরিণত হলো।আর মূসা তার হাত (পকেটে ঢুকিয়ে আবার) বের করলো, ফলে তা তৎক্ষণাৎ দর্শকদের সামনে উজ্জ্বল-সাদা (হাত) হয়ে দেখা দিলো।কুরআন — সূরা Ash-Shu'araa (26:29–33)উৎস : QuranEnc.com — Bengali Translation - Rowwad Translation Center — v1.1.2


ঈসা মসিহ নিজেকে নবী হিসেবে ঘোষণা করলে বনি ইসরাইলও তাঁর আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে। তাদের বোঝাতে তাঁকেও অকাট্য প্রমাণ ব্যবহার করতে হয়:
তেমনিভাবে তিনি তাঁকে বনী ইসরাঈলদের রাসূল বানাবেন। (তিনি তাদেরকে বলবেন) ‘নিশ্চয় আমি (২৫) তোমাদের নিকট তোমাদের রবের পক্ষ থেকে নিদর্শন নিয়ে এসেছি। তা হলো, অবশ্যই আমি তোমাদের জন্য কাদামাটি দিয়ে পাখির আকৃতি বানাবো, অতঃপর আমি তাতে ফুঁক দেব। ফলে আল্লাহর নির্দেশে সেটি পাখি হয়ে যাবে। আর আমি আল্লাহর নির্দেশে জন্মান্ধ ও কুষ্ঠ রোগীকে সুস্থ করবো এবং মৃতকে জীবিত করবো। আর তোমরা যা আহার করো এবং তোমাদের ঘরে যা জমা করে রাখো তা আমি তোমাদেরকে জানিয়ে দিবো। নিশ্চয় এতে তোমাদের জন্য নিদর্শন রয়েছে, যদি তোমরা মু’মিন হয়ে থাকো।(২৫) আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর প্রেরিত রাসূল এবং আমার নবুওয়াতের সত্যতার প্রমাণ নিয়ে এসেছি।কুরআন — সূরা آل عمران (3:49)উৎস : QuranEnc.com — Bengali Translation - Rowwad Translation Center — v1.1.2

নবী মুহাম্মদ: প্রত্যক্ষ মুজিজা

মুসলিমরা নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য মুজিজাগুলো নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা কম করেন, কারণ তিনি যে মুজিজাকে সবচেয়ে বেশি সামনে এনেছেন, সেটি কুরআন নিজেই। তাঁর সমসাময়িকেরা বাণীর ঐশী উৎস প্রমাণকারী ধারাবাহিক মুজিজা দেখেছেন। সবচেয়ে পরিচিত কয়েকটি হলো:

তেমনিভাবে তিনি তাঁকে বনী ইসরাঈলদের রাসূল বানাবেন। (তিনি তাদেরকে বলবেন) ‘নিশ্চয় আমি (২৫) তোমাদের নিকট তোমাদের রবের পক্ষ থেকে নিদর্শন নিয়ে এসেছি। তা হলো, অবশ্যই আমি তোমাদের জন্য কাদামাটি দিয়ে পাখির আকৃতি বানাবো, অতঃপর আমি তাতে ফুঁক দেব। ফলে আল্লাহর নির্দেশে সেটি পাখি হয়ে যাবে। আর আমি আল্লাহর নির্দেশে জন্মান্ধ ও কুষ্ঠ রোগীকে সুস্থ করবো এবং মৃতকে জীবিত করবো। আর তোমরা যা আহার করো এবং তোমাদের ঘরে যা জমা করে রাখো তা আমি তোমাদেরকে জানিয়ে দিবো। নিশ্চয় এতে তোমাদের জন্য নিদর্শন রয়েছে, যদি তোমরা মু’মিন হয়ে থাকো।(২৫) আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর প্রেরিত রাসূল এবং আমার নবুওয়াতের সত্যতার প্রমাণ নিয়ে এসেছি।কুরআন — সূরা آل عمران (3:49)উৎস : QuranEnc.com — Bengali Translation - Rowwad Translation Center — v1.1.2
— চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হওয়া:

কিয়ামত নিকটবর্তী হয়েছে এবং চাঁদ বিদীর্ণ হয়েছে।(৩৩)(৩৩) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায় চন্দ্র দ্বিখণ্ডিত হয়েছে। এটি তার একটি মু‘জিযা এবং কিয়ামতের একটি বড় আলামত।কুরআন — সূরা Al-Qamar (54:1)উৎস : QuranEnc.com — Bengali Translation - Rowwad Translation Center — v1.1.2
— নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুই হাতের মাঝে পানি প্রবাহিত হওয়া।
— খাবারের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া।
— রোগীদের আরোগ্য লাভ।
— …

কুরআনের মুজিজা

ইসলামের বাণী বিশ্বজনীন ও সব যুগের জন্য প্রযোজ্য। তাই পরবর্তী প্রজন্মের জন্য আল্লাহর এমন বিশ্বজনীন ও কালোত্তীর্ণ মুজিজা দেওয়াই স্বাভাবিক, যার মাধ্যমে সব জাতি ও যুগের মানুষ মুহাম্মদকে নবী এবং নৈতিক ও আধ্যাত্মিক পথপ্রদর্শক হিসেবে চিনতে পারবে। সেই মুজিজাই কুরআন।


কুরআনের অলৌকিকতা বিভিন্ন দিক থেকে বোঝা যায়। এর বাগ্মিতা ও সাহিত্যিক রীতি এতই বিস্ময়কর যে নবীর শত্রুরা একে জাদু বলেছিল। কুরআনের হৃদয়স্পর্শী বাণী যেন মানুষকে মুগ্ধ করে ইসলামের দিকে টেনে না নেয়, সে ভয়ে তারা লোকদের নবী মুহাম্মদের কাছে যেতে নিষেধ করত।

এতে বোঝা যায়, শত্রুরাও কুরআনের অসাধারণ ও গভীর প্রভাব সম্পর্কে নিশ্চিত ছিল।
আরেকটি দিক হলো ভবিষ্যৎ ঘটনার পূর্বাভাস, যা পরে কুরআনের বর্ণনা অনুযায়ী হুবহু ঘটেছে। যেমন পারস্যের বিরুদ্ধে বাইজান্টাইনদের বিজয়:

আলিফ-লাম-মীম।(পারস্য কর্তৃক) রোমানরা পরাজিত হয়েছে।নিকটবর্তী অঞ্চলে (সিরিয়ায়), কিন্তু তারা তাদের এ পরাজয়ের পর অচিরেই বিজয় লাভ করবে,কয়েক বছরের মধ্যেই(১)। (এ ঘটনার) পূর্বের ও পরের সকল ফয়সালা আল্লাহরই। আর (রোমকদের বিজয়ে) সেদিন মুমিনরা আনন্দিত হবে,(১) অর্থাৎ এ ঘটনা ঘটবে তিন থেকে দশ বছরের মধ্যেই।আল্লাহর সাহায্যে।(২) তিনি যাকে ইচ্ছা সাহায্য করেন। আর তিনি মহাপরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।(২) কেননা, রোমকরা আহলে কিতাব ছিল; পক্ষান্তরে পারসিকরা অগ্নিপূজক ছিল।এটা আল্লাহর ওয়াদা। আল্লাহ তাঁর ওয়াদা খেলাফ করেন না। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না।কুরআন — সূরা Ar-Room (30:1–6)উৎস : QuranEnc.com — Bengali Translation - Rowwad Translation Center — v1.1.2

এ সম্পর্কে ইতিহাসবিদ গিবন বলেন:
“ইরানের সামরিক অভিযান যখন সাফল্যের শীর্ষে, তখন মুহাম্মদ ঘোষণা করেছিলেন, কয়েক বছরের মধ্যেই রোমানদের বিজয়পতাকা উড়বে। এই পূর্বাভাস ঘোষণার সময় রোমানদের জয়ের চেয়ে বিস্ময়কর ও অবিশ্বাস্য কিছু যৌক্তিকভাবে ভাবা যেত না। কারণ হেরাক্লিয়াসের রাজত্বের প্রথম বারো বছর দেখে বরং রোমান রাষ্ট্রের আসন্ন পতন ও চূড়ান্ত অবসানই মনে হচ্ছিল।”
এমন অবস্থার একটি দেশের পক্ষে নয় বছরে ঘুরে দাঁড়ানো, সেনাবাহিনী গুছিয়ে বিজয় অর্জন করা যৌক্তিকভাবে সম্ভব মনে হতো না। বিশেষত জানা যায়, তিন শতাব্দী ধরে—৩০৩ সাল থেকে—কনস্টান্টিনোপলে বিতরণের জন্য মিসর থেকে কৃষিপণ্য আসত; ৬১৮ সালে প্রথমবার সেই সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। হেরাক্লিয়াস এত সমস্যায় পড়েন যে উত্তর আফ্রিকার কার্থেজে, বর্তমান তিউনিসিয়ায়, চলে গিয়ে সেখানেই রাজধানী করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু এসব সত্ত্বেও মুজিজাটি ঘটে।

আজও কুরআনের নানাবিধ মুজিজা আমাদের প্রতিদিন বিস্মিত করে। যেমন এর বিধানগত অলৌকিকতা: নবী নিরক্ষর সমাজে বড় হয়েও এমন কিতাব নিয়ে এসেছেন, যা অভূতপূর্ব আইনব্যবস্থার উৎস। ব্যক্তিগত অবস্থাসংক্রান্ত বিধি, ফৌজদারি আইন এবং মানবিক ও সামাজিক সম্পর্কের ন্যায়নীতিসহ জীবনের সব দিক এর আওতায়। এই বিধানে সুস্পষ্ট প্রজ্ঞা রয়েছে। অন্যদিকে কুরআন অতীত জাতিগুলোর ইতিহাস অত্যন্ত নির্ভুলভাবে জানায়। নতুন আবিষ্কার ও প্রত্নতাত্ত্বিক খনন প্রতিনিয়ত কুরআনের ঐতিহাসিক সত্যগুলো সমর্থন করে। এসব এসেছে এমন এক মানুষের মাধ্যমে, যিনি কখনো কোনো বই পড়েননি বা লেখেননি।
আরেকটি দিক বৈজ্ঞানিক মুজিজা: কুরআনে এমন বৈজ্ঞানিক সত্যের বর্ণনা রয়েছে, যা সেই যুগের মানুষের জ্ঞানের বাইরে ছিল—আরবের বেদুইনদের কথা তো আরও দূরের। আধুনিক বিজ্ঞানের আগমনের পরই কেবল সেগুলো আবিষ্কৃত হয়েছে।

প্রত্যক্ষ মুজিজা কি যুক্তিবিরোধী?

কিছু মানুষ প্রশ্ন করেন: “ইবরাহিমের সম্পর্কে যে আশ্চর্য মুজিজার কথা বলা হয়—যেমন আগুনে ঢুকেও না পোড়া—তা কীভাবে সম্ভব? কিংবা পরে মুসার ঘটানো নিদর্শন: লাঠি সাপে পরিণত হওয়া বা সমুদ্র দ্বিখণ্ডিত করা, বগলের নিচ থেকে হাত বের করলে সাদা হয়ে যাওয়া—এসব কি অযৌক্তিক নয়? এসব কি যুক্তির সীমা ছাড়িয়ে সব নিয়মের বিরোধিতা করে না?”

ড. মুস্তাফা মাহমুদের উত্তর, তাঁর আমার নাস্তিক বন্ধুর সঙ্গে সংলাপ বই থেকে:

মুজিজা সম্পর্কে তোমার ধারণাই ভুল। তোমার মতে, এটি অবিশ্বাস্য কসরত, নিয়মের ব্যতিক্রম, অযৌক্তিক কিছু। কিন্তু সত্য ভিন্ন।
আমরা কখনোই যুক্তি ও যৌক্তিকতার সীমানা ছেড়ে বের হই না।

এখানে কোনো অবিশ্বাস্য কসরত নেই! উড়োজাহাজ দেখে আদিম জীবনযাপনকারী কোনো কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তির বিস্মিত হওয়ার কারণ শুধু বৈজ্ঞানিক নিয়ম সম্পর্কে তাঁর অজ্ঞতা। এসব নিদর্শনে তোমার বিস্ময়ের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য: মুসার সমুদ্র দ্বিখণ্ডিত করা বা লাঠিকে সাপে পরিণত করা, ঈসার মৃতকে জীবিত করা, ইবরাহিমের আগুনে ঢুকেও না পোড়া। তোমার কাছে এগুলো নিয়মবিরোধী অযৌক্তিক ঘটনা। অথচ সবই এমন ঐশী নিয়মের অধীন, যা আমাদের জানা নিয়মের ওপর প্রাধান্য পায়। তাই এগুলোও আরেক ধরনের শৃঙ্খলা ও যৌক্তিকতা, যা আমাদের বোধের বাইরে। এর মাধ্যমে আল্লাহ শৃঙ্খলা নষ্ট করেন না; বরং উচ্চতর শৃঙ্খলা, উচ্চতর নিয়ম ও আমাদের বোধের ঊর্ধ্বের জ্ঞানের প্রকাশ ঘটান।
আরও ভালোভাবে বোঝাতে একটি উদাহরণ দিই। ধরো, আল্লাহর ফয়সালায় তুমি তিন হাজার বছর পেছনে চলে গেলে এবং দেশলাই বাক্সের আকারের একটি ট্রানজিস্টর রেডিও হাতে মিসরের ফেরাউনের কাছে ঢুকলে। বলো তো, যে বস্তু থেকে কথা ও গান বের হচ্ছে, তা দেখে ফেরাউন ও তার সভাসদ কী করবে? হতবাক হয়ে নিশ্চয়ই অলৌকিক ঘটনা বলে চিৎকার করবে: “এ তো জাদু! যুক্তির বাইরে, সব নিয়মের বিপরীত!” অথচ আমরা এখন জানি, তা নয়; ট্রানজিস্টরের ভেতরে যা ঘটে, তা ইলেকট্রনিক্সের নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী ঘটে। ঘটনাটি পুরোপুরি যৌক্তিক। হাতে এমন টেলিভিশন নিয়ে বাবিলের রাজার কাছে গেলে বিস্ময় আরও বাড়ত, যদি তাতে বাইজান্টিয়ামের ছবি দেখা যেত। আসিরিয়ার রাজাকে রেকর্ড শোনালে তিনি কথা বলা প্লাস্টিকের বস্তুটি দেখে মুগ্ধ হয়ে হাততালি দিতেন।


মানুষের বিজ্ঞান যদি আমাদের এত ক্ষমতা দিয়ে থাকে, তাহলে আল্লাহর দেওয়া জ্ঞান যে আরও বেশি ক্ষমতা দিতে পারে, তাতে সন্দেহ নেই। তাই নবীদের দেওয়া আল্লাহর নিদর্শন কখনো যুক্তির সীমা ছাড়ায় না। বরং তা প্রমাণ করে, নবী সর্বশক্তিমান স্রষ্টার পক্ষ থেকে এসেছেন; তিনি তাঁকে মানুষের সামর্থ্যের বাইরে মুজিজা দিতে সক্ষম।