সৃষ্টি সাক্ষ্য দেয়

স্বাধীন ইচ্ছা স্রষ্টার সাক্ষ্য দেয়

মানুষের স্বাধীন ইচ্ছার উৎস কী? জড় পদার্থ কি সিদ্ধান্তের স্বাধীনতা দিতে পারে? কার্ল ইয়াসপার্স ও আলিয়া ইজেতবেগোভিচের বক্তব্যের আলোকে জানুন।

স্বাধীন ইচ্ছা স্রষ্টার সাক্ষ্য দেয়

 

“মানুষ যখন নিজের স্বাধীনতা সম্পর্কে পূর্ণ সচেতন হয়, তখনই সে ঈশ্বরের অস্তিত্ব সম্পর্কেও নিশ্চিত হয়। ঈশ্বর ও স্বাধীনতা অবিচ্ছেদ্য…” কার্ল ইয়াসপার্স, Introduction to Philosophy।


মানুষ স্বাধীন সত্তা। প্রতিদিন যে স্বাধীনতা আমরা ব্যবহার করি, তার সাক্ষী আমরা সবাই—কর্মজীবন, বিয়ে বা পড়াশোনার মতো বড় সিদ্ধান্ত হোক, কিংবা সংবাদপত্র পড়া বা টেলিভিশন দেখার মতো ছোট পছন্দ। স্বাধীনতা মানুষের অস্তিত্বের অন্তর্নিহিত বৈশিষ্ট্য।

তাহলে প্রশ্ন আসে, মানুষ স্বাধীন ইচ্ছা পেল কোথা থেকে? প্রকৃতি থেকে? তাকে গঠন করা পদার্থ থেকে? শরীরের পরমাণু থেকে? উত্তর স্পষ্ট: পদার্থের নিজের যা নেই, তা সে দিতে পারে না। পদার্থের স্বাধীন ইচ্ছা নেই; চিন্তা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও নেই। কেউ বাধ্য না করা সত্ত্বেও পছন্দ করার মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার চর্চা হয়। পদার্থের এই বৈশিষ্ট্য থাকা অসম্ভব, কারণ তার সব ক্রিয়া হয় অনমনীয় কোনো নিয়মের, নয়তো কাকতালীয় ঘটনার ফল।

অন্যভাবে বললে, চেতনাহীন পরমাণু একত্র হয়ে কোষ গঠন করতে পারে না। নতুন সিদ্ধান্ত নিয়ে সেই কোষকে দুই ভাগ করে, তারপর আরও সিদ্ধান্ত নিয়ে স্বাধীনভাবে চিন্তা ও সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম অধ্যাপকদের সৃষ্টি করতে পারে না—যাঁরা প্রথমে ইলেকট্রন অণুবীক্ষণযন্ত্র উদ্ভাবন করেছেন, তারপর তা দিয়ে নিজেদের কোষের গঠন পরীক্ষা করেছেন। পদার্থের চেতনা বা স্বাধীন ইচ্ছা নেই; তা প্রাণহীন এক স্তূপ,

আলিয়া ইজেতবেগোভিচ
বসনিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট আলিয়া ইজেতবেগোভিচ।

যাতে আল্লাহর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টিকর্মের মাধ্যমেই প্রাণ সঞ্চারিত হয়।

লেখক ও বসনিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট আলিয়া ইজেতবেগোভিচ তাঁর ইসলাম: পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যবর্তী বইয়ে বলেন: “…মানুষের স্বাধীনতা এবং নিজের কাজের দায় স্বীকার করলে পরোক্ষে বা প্রত্যক্ষভাবে ঈশ্বরের অস্তিত্বও স্বীকার করা হয়। কারণ একমাত্র ঈশ্বরই স্বাধীন সত্তা সৃষ্টি করতে পারেন; কেবল সৃষ্টির মাধ্যমেই স্বাধীনতার অস্তিত্ব সম্ভব।”
ইজেতবেগোভিচ আরও বলেন: “…কোনো একদিন—এক শতাব্দী বা সভ্যতার দশ লক্ষ বছর পরে—মানুষ নিজের অনুরূপ এক প্রতিরূপ তৈরি করতে পারে; এক ধরনের রোবট বা অদ্ভুত প্রাণী, কিছুটা তার নির্মাতার মতো। মানুষের মতো দেখতে এই প্রাণী কখনো স্বাধীন হবে না; কেবল প্রোগ্রামে নির্ধারিত কাজই করতে পারবে। এখানেই অতুলনীয় ঐশী সৃষ্টির মহত্ত্ব প্রকাশ পায়… অনন্তের কোনো এক মুহূর্তে এক স্বাধীন সত্তার অস্তিত্ব শুরু হয়েছিল।” আলিয়া ইজেতবেগোভিচ, ইসলাম: পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যবর্তী।

উপসংহার

মানুষের স্বাধীনতার প্রশ্ন দেখায়, নাস্তিকতা কতটা ভিত্তিহীন মতাদর্শ। আল্লাহ ছাড়াই নিজেকে স্বাধীন এবং তাঁকে বিশ্বাস না করার স্বাধীনতাসম্পন্ন বলে ঘোষণা করে নাস্তিক নিজের বিশ্বাসের ভিত্তিই নষ্ট করেন। কারণ নিজেকে স্বাধীন বলে স্বীকার করে তিনি পরোক্ষভাবে সেই স্রষ্টার অস্তিত্বের সাক্ষ্য দেন, যিনি তাঁকে এই স্বাধীনতা দিয়েছেন।