জীবাশ্মের নথি বিবর্তনকে খণ্ডন করে
জীবন্ত জীবাশ্ম ও ক্যামব্রিয়ান যুগে জটিল প্রাণীর আকস্মিক আবির্ভাব সম্পর্কে জানুন। প্রাচীন ও বর্তমান জীবের তুলনায় নিবন্ধের যুক্তিগুলো পড়ুন।
পৃথিবীতে প্রাণের আকস্মিক ও জটিল রূপে আবির্ভাব
বিবর্তনবাদী জীবাশ্মবিদ মার্ক চারনেকি বলেন:
“তত্ত্বটি প্রমাণের চেষ্টায় বড় সমস্যা জীবাশ্মের প্রশ্ন: পৃথিবীর ভূতাত্ত্বিক গঠনে সংরক্ষিত বিলুপ্ত প্রজাতির ছাপ। ডারউইনের অনুমিত মধ্যবর্তী ভিন্ন রূপের চিহ্ন এই নথিতে কখনো পাওয়া যায়নি। বরং প্রজাতিগুলো হঠাৎ দেখা দেয় ও হারিয়ে যায়। এই অসংগতি সৃষ্টিবাদীদের সেই যুক্তিকেই সমর্থন করে যে প্রতিটি প্রজাতি ঈশ্বর সৃষ্টি করেছেন।”মার্ক চারনেকি, “The Revival of the Creationist Crusade”, MacLean’s, ১৯ জানুয়ারি ১৯৮১, পৃ. ৫৬।
|
জীবন্ত জীবাশ্ম
একটি ফড়িং ও তার জীবাশ্ম |
ক্যামব্রিয়ান যুগ![]() ক্যামব্রিয়ান যুগ থেকে এখনো টিকে থাকা একটি উদাহরণ:নটিলাস ভূস্তর পরীক্ষা করলে বোঝা যায়, পৃথিবীতে প্রাণের আবির্ভাব আকস্মিক। ক্যামব্রিয়ান যুগে বহু বৈচিত্র্যময় প্রজাতি হঠাৎ পূর্ণাঙ্গ রূপে দেখা দেয়। এই আবিষ্কার সৃষ্টির স্পষ্ট নিদর্শন।জটিল জীবের জীবাশ্মসমৃদ্ধ সবচেয়ে গভীর ভূস্তর হলো “ক্যামব্রিয়ান”; এর আনুমানিক বয়স বায়ান্ন থেকে তিপ্পান্ন কোটি বছর। ক্যামব্রিয়ান শিলায় পাওয়া জীবাশ্ম জটিল অমেরুদণ্ডী প্রাণীর—শামুক, ট্রাইলোবাইট, স্পঞ্জ, কৃমি, জেলিফিশ, তারামাছ, খোলসযুক্ত প্রাণী ও সামুদ্রিক লিলি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, এই স্বতন্ত্র প্রজাতিগুলো কোনো পূর্বসূরি ছাড়াই হঠাৎ আবির্ভূত হয়েছে। ![]() জটিল ব্যবস্থা ক্যামব্রিয়ান যুগে হঠাৎ আবির্ভূত অধিকাংশ জীবের চোখ, ফুলকা ও রক্তসঞ্চালনব্যবস্থার মতো জটিল ব্যবস্থা ছিল। তাদের উন্নত শারীরবৃত্তীয় গঠন আধুনিক সমতুল্য জীবের চেয়ে আলাদা ছিল না। বিবর্তনবাদী সাহিত্যে বহুল সমাদৃত সাময়িকীগুলোর একটি Earth Sciences-এর সম্পাদক রিচার্ড মোনাস্টারস্কি ডারউইনবাদীদের বিব্রতকর দ্বিধায় ফেলা এই সত্য স্বীকার করেন:অর্ধ বিলিয়ন বছর আগে আজকের প্রাণীদের অত্যন্ত জটিল রূপগুলো হঠাৎ আবির্ভূত হয়। প্রায় পঞ্চান্ন কোটি বছর আগের ক্যামব্রিয়ান যুগের শুরুতে এই বিবর্তনীয় বিস্ফোরণে পৃথিবীর প্রথম জটিল জীব দিয়ে সমুদ্র ভরে যায়। আজকের প্রাণীদের বিপুল বৈচিত্র্য আদি ক্যামব্রিয়ানেই ছিল; তখনও তারা আজকের মতোই পরস্পর থেকে আলাদা ছিল।রিচার্ড মোনাস্টারস্কি, “Mysteries of the Orient”, Discover, এপ্রিল ১৯৯৩, পৃ. ৪০। ![]() ক্যামব্রিয়ান যুগে থাকা জীবগুলোর আঁকা চিত্র। অভিন্ন পূর্বপুরুষহীন এত ভিন্ন প্রজাতি কীভাবে আবির্ভূত হলো, তার উত্তর বিবর্তনবাদীদের কাছে নেই। অক্সফোর্ডের প্রাণীবিজ্ঞানী ও বিশ্বের অন্যতম প্রধান বিবর্তনসমর্থক রিচার্ড ডকিন্স স্বীকার করেন:মনে হয় যেন তাদের—ক্যামব্রিয়ান যুগের প্রজাতিগুলোকে—কোনো বিবর্তনীয় ইতিহাস ছাড়াই সেখানে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে।রিচার্ড ডকিন্স, The Blind Watchmaker, লন্ডন: ডব্লিউ. ডব্লিউ. নর্টন, ১৯৮৬, পৃ. ২২৯। ক্যামব্রিয়ান বিস্ফোরণ সুস্পষ্ট প্রমাণ যে আল্লাহ সব জীব সৃষ্টি করেছেন। বিবর্তনীয় পূর্বপুরুষ ছাড়া জীবের আকস্মিক আবির্ভাবের একমাত্র গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা সৃষ্টি। এ কারণে ডারউইন লেখেন:একই গণ বা পরিবারের বহু প্রজাতি যদি সত্যিই একসঙ্গে হঠাৎ জীবিত হয়ে ওঠে, তাহলে প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে ধীর পরিবর্তনসহ বংশধারার তত্ত্বের জন্য তা মরণাঘাত হবে।চার্লস ডারউইন, The Origin of Species: A Facsimile of the First Edition, হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, ১৯৬৪, পৃ. ৩০২। ডারউইন যে মরণাঘাতের ভয় পেয়েছিলেন, তা জীবাশ্মের নথির একেবারে শুরুতে ক্যামব্রিয়ান যুগ থেকেই এসেছে। ট্রাইলোবাইটের চোখ ক্যামব্রিয়ান প্রাণী ট্রাইলোবাইটের চোখের নকশা ছিল অসাধারণ। শত শত ক্ষুদ্র চোখ নিয়ে তা গঠিত; প্রতিটিতে আবার দুটি ভিন্ন লেন্স ছিল। ধারণা করা হয়, এতে পানির নিচে বিকৃতি ছাড়া পরিষ্কার দেখা যেত। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্বের অধ্যাপক ডেভিড রাউপ বলেন: “ট্রাইলোবাইটেরা সর্বোত্তম নকশা ব্যবহার করত; আজ তা তৈরি করতে একই সঙ্গে অভিজ্ঞ ও কল্পনাশক্তিসম্পন্ন আলোকপ্রকৌশলী লাগত।”ডেভিড রাউপ, “Conflicts between Darwin and Paleontology”, Bulletin, Field Museum of Natural History, খণ্ড ৫০, জানুয়ারি ১৯৭৯, পৃ. ২৪। চোখের এই নিখুঁত গঠন তিপ্পান্ন কোটি বছর আগে হঠাৎ পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় আবির্ভূত হয়। তাছাড়া ট্রাইলোবাইটের পুঞ্জাক্ষির ব্যবস্থা একটি পরিবর্তন ছাড়াই আজ পর্যন্ত টিকে আছে। মৌমাছি বা ফড়িংয়ের মতো কিছু পতঙ্গের দৃষ্টিব্যবস্থাও একই। ![]() |



মাছ
নটিলাস আজও একই
তারামাছ


